আন্তর্জাতিক নারী দিবস ইতিহাস ও গুরুত্ব - নারীর অধিকার বর্তমান বাস্তবতা
পহেলা বৈশাখের ইতিহাস - নববর্ষের বক্তব্যপ্রিয় পাঠক আপনি হয়তো, অনলাইনে বিভিন্ন প্লাটফর্মে আন্তর্জাতিক নারী দিবস
ইতিহাস ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানার জন্য অনেক খোঁজাখুঁজি করার পরও সঠিক কোন তথ্য
পাচ্ছেন না। তবে, কোন চিন্তার কারণ নেই আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ পোস্টটি আপনার জন্য
সঠিক তথ্য দিয়ে সাহায্য করবে।
আজকের এই পোস্টে আমরা আন্তর্জাতিক নারী দিবস ইতিহাস ও গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত
তথ্য নিয়ে আলোচনা করব। এছাড়াও নারীর অধিকার বর্তমান বাস্তবতা সম্পর্কে জানতে
আজকের সমগ্র পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস ইতিহাস ও গুরুত্ব - নারীর অধিকার বর্তমান বাস্তবতা
নারী হচ্ছে মূলত দুই অক্ষর বিশিষ্ট একটি নাম। আর এই নামের পিছনে রয়েছে একটি
অদম্য শক্তি সম্ভাবনা উৎস। অর্থাৎ বিশ্বের যা কিছু সৃষ্টি চিরকল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর। কিন্তু যুগ যুগ ধরে বর্তমান সময়
পর্যন্ত নারীরা আমাদের সুশীল সমাজে নানা ধরনের বাধার সম্মুখীন প্রতিনিয়ত হতে
হচ্ছে। তবে নারীরা এই সমস্ত
বাধা-বিপত্তি অপেক্ষা করে কোনভাবে তারা থেমে থাকেনি। বরং শিক্ষা থেকে শুরু
করে অর্থনীতি, রাজনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের অসামান্য
ভূমিকা রয়েছে। তাদের এই অসামান্য অগ্রণী ভূমিকা থাকার পরও নারীরা আমাদের সমাজে
এখনো কি তারা সমান অধিকার পাচ্ছে নাকি বিভিন্ন ধরনের লিঙ্গ ও বর্ণ বৈষম্যের শিকার
হচ্ছে।
তারই ধারাবাহিকতায় সমগ্র নারী জাতির সমান অধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রতিবছর ৮
মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়। কিন্তু এই নারী দিবস শুধুমাত্র
উদযাপনের বিষয় নয় বরং নারী জাতি অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই এবং সমাজে ন্যায়ের
দাবি প্রতিষ্ঠিত করা ও ভবিষ্যতে উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক
নারী দিবস আখ্যায়িত করা হয়েছে।
তাই আজকের এই পোস্টটি আপনি যদি মনোযোগ সহকারে সম্পন্ন পড়েন তাহলে, অবশ্যই আপনি
আন্তর্জাতিক নারী দিবস ইতিহাস ও গুরুত্ব - নারীর অধিকার বর্তমান বাস্তবতা
সম্পর্কে বিস্তারিত সঠিক তথ্যগুলো জানতে পারবেন। কেননা আন্তর্জাতিক নারী দিবস
ইতিহাস ও গুরুত্ব সম্পর্কে বর্তমান সময়ে বাস্তবতা তথ্যচিত্রে নিয়ে বিশ্লেষণ করে
বুঝা যায় যে,
আমাদের সমাজে সত্যিকারে কতটা পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। নারী দিবসের ইতিহাস ও
গুরুত্ব এবং নারীর অধিকার বর্তমান বাস্তবতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে আলোচনা
করা হলো।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ইতিহাস
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সূচনা মূলত এক দীর্ঘ আন্দোলনের প্রচেষ্টার মাধ্যমে
স্বীকৃতি অর্জন করেছে।আর এই স্বীকৃতি অর্জন করা পিছনে প্রতিটি নারী জাতির এক
অগ্রণী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে নারী দিবসের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯০৮
সালে নিউইয়র্কে। অর্থাৎ নিউইয়র্কে কারখানায় নারী শ্রমিকরা তাদের কর্মক্ষেত্রের
জন্য উপযুক্ত পরিবেশ না পাওয়া,
তাদের কাজের মজুরি কম দেওয়া এবং ভোটাধিকার সহ বিভিন্ন ধরনের দাবির চাহিদা পূরণ
করার জন্য আন্দোলন করেন। ১৯০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যালিস্ট পার্টি প্রথমবারের
মতো আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২৮ ফেব্রুয়ারি পালন করেন। এর পরবর্তী সময়ে ১৯১০ সালে
দিকে ক্লারা জেটকিন নামে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী আন্তর্জাতিক নারী
সম্মেলনের
জন্য প্রথম প্রস্তাব উপস্থাপন করেন যে, সমগ্র নারীদের অধিকার রক্ষার জন্য
বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ দিন হিসেবে পালন করা উচিত। পরবর্তীতে ১৯১১
সালে ১৯ মার্চ অস্ট্রেলিয়া ডেনমার্ক, জার্মানি এবং সুইজারল্যান্ড প্রথমবারের মতো
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করে। পরে ১৯১৩ সালে রাশিয়ার নারীরা ৮ মার্চ নারী
দিবস পালন করে
এবং তার ধীরে ধীরে বিশ্বব্যাপীর কাছে ছড়িয়ে পড়ে। তারই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে
অর্থাৎ ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে
স্বীকৃতি দানের মাধ্যমে ঘোষণা করে।
নারী দিবসের গুরুত্ব
নারী দিবস কেবল মাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ দিন হিসেবে উদযাপন করা হয় না বরং
সমগ্র নারীজাতির প্রতি সমাজে যে ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি বর্ণ বৈষম্য রয়েছে তা
পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে নারী
দিবসের নারীদের প্রতি সমাজের যে ধরনের গুরুত্ব রয়েছে সেগুলোর সম্পর্কে নিম্নরূপে
বর্ণনা করা হল।
- নারীর ক্ষমতায়ন এই দিনটি বিশেষ করে নারীদের ক্ষমতায়নের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। অর্থাৎ সমাজে নারীদের জন্য প্রতিটি স্তরে সমাজ সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
- শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে অগ্রগতি বিশেষ করে অনেক দেশে এখনো অধিকাংশ নারীরা শিক্ষার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছে। তবে নারী দিবসে সমগ্র নারীদের জন্য শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের অধিকারের বার্তা নিশ্চিত করতে হবে।
- নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা বিশ্বব্যাপী এখনো অনেক নারী জাতি প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের প্রতিনিয়ত স্বীকার হচ্ছে। কিন্তু নারী দিবসে এই ধরনের প্রজার সমস্যা গুলো বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলার দরকার।
- নেতৃত্বের জায়গায় নারীর অংশগ্রহণ রাজনীতি থেকে শুরু করে অর্থনীতি শিক্ষা এবং সমাজে বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ডে উন্নয়নের সম্পৃক্ত বাড়ানোর জন্য নারীদের অংশগ্রহণ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বিশেষ করে তাদের এ ধরনের উন্নয়নের কর্মকাণ্ডের সাথে কাজ করার জন্য সুযোগ দেওয়া উচিত।
নারীর অধিকার ও বর্তমান বাস্তবতা
বর্তমান সময়ের নারীর অধিকার এবং বাস্তবতা সম্পর্কে এখনো নানাভাবে বিভিন্ন ধরনের
প্রতিকূল পরিবেশে সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অর্থাৎ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনো অধিকাংশ
নারীরা গৃহস্থালি সহিংসতা সহ যৌন হয়রানি এবং সামাজিক বৈষম্যের প্রতিনিয়ত শিকার
হচ্ছে। এমনকি কর্মক্ষেত্রে নারীরা প্রতিটা পদক্ষেপে পুরুষের তুলনায় কম মজুরি
পায়।
কিন্তু পুরুষের সমতুল্য কাজ করার পরেও মেয়েরা তাদের যোগ্য মজুরি থেকে বঞ্চিত।
বিশেষ করে অনেক দেশে সচরাচর ভাবে দেখা যায় যে, নারীরা কর্মক্ষেত্রে কিংবা
রাস্তায় যাতায়াতের সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগান্তিক হতে হয়। তবে বর্তমান সময়ে
এই ধরনের ইতিবাচক সমস্যার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নারীদের শিক্ষার হার
ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এমনকি তারা বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ করছে
রাজনীতির, শিক্ষা, প্রযুক্তি ব্যবসা-বাণিজ্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা এখন সফলতার
সঙ্গে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।
নারীর ক্ষমতায়নে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ভূমিকা - ২০২৫ সালের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য
নারীর ক্ষমতায়ন শুধুমাত্র সামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক বিষয়বস্তু নয়, বরং তাদের এই
ক্ষমতায়ন একটি বৈশ্বিক আন্দোলন যা সমাজের প্রতিটি স্তরে সমগ্র নারীদের জন্য সমান
সুযোগ মর্যাদা এবং সঠিক নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠার জন্য অবদান রয়েছে। আর এই
আন্তর্জাতিক নারী দিবস আন্দোলনের অন্যতম প্রধান প্রতীক হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমগ্র
নারীদের সংগ্রাম ও অর্জনের স্বীকৃতি প্রদান করেছে।
তারই ধারাবিকতায় প্রতিবছর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়। যেখানে
নারীদের জন্য সমান অধিকার সুযোগ এবং বিভিন্ন ধরনের নেতৃত্বে ও ক্ষমতায়নের উপর
বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য
বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও প্রতিবছরের মতো এবছরও জাতিসংঘ একটি
শক্তিশালী থিম নির্ধারণ করে।
যেখানে নারীদের জন্য ক্ষমতায়ন এবং উন্নয়নের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আজকের এই পোষ্টের মাধ্যমে নারী দিবসে নারীর ক্ষমতায়নের ভূমিকা এবং২০২৫ সালের
সম্ভাব্য প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে বিস্তারিত তথ্য নিচে আলোচনা করা হলো।
নারীর ক্ষমতায়নে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ভূমিকা
নারী দিবসে বিশেষ করে নারীদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ক্ষমতায়ন। অর্থাৎ
শিক্ষা, অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সামাজিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের শক্তিশালী ভূমিকা
গ্রহণ করা। তাই নিম্নলিখিত অংশে নারী দিবসের নারীদের ক্ষমতায়নের ভূমিকা দিকগুলো
বিশ্লেষণ করা হলো।
শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন
একজন নারীর ক্ষমতায়নের প্রথম ধাপ হল তার শিক্ষা। অর্থাৎ নারী দিবসের মাধ্যমে
শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের গুরুত্ব যদি মূল্যায়ন করা হয় তাহলে নারীরা সমাজে
বিভিন্নভাবে কর্মকাণ্ডে প্রতিযোগিতা করতে পারবে। নারী দিবসের মাধ্যমে তাদের
প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি বিজ্ঞান প্রযুক্তি
প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে নারীদের অংশগ্রহণের জনপ্রিয়তা বাড়বে।
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও কর্মসংস্থান
নারী যদি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়, তাহলে তাদের যেকোনো ধরনের সিদ্ধান্ত
গ্রহনের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এমনকি নারীদের জন্য বিশেষ অনুদানু সহায়তা প্রদান
করার পাশাপাশি কর্ম ক্ষেত্রে লিঙ্গের সমতা করতে হবে এবং পুরুষের সমতুল্য বেতন
ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্ব
নারীদের রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বে অংশগ্রহণ করার
জন্য নিশ্চিত করতে হবে। কেননা নারীদের জন্য নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে
সমান সুযোগ ক্ষেত্র প্রদান করতে হবে। এছাড়াও লিঙ্গ বৈষম্য কমানোর জন্য আইনগত
ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই
নারী দিবসে মূলত নারীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনসচেতন
বৃদ্ধি করতে হবে। এছাড়াও নির্যাতন প্রতিরোধে জন্য কার্যকর আইন বাস্তবায়ন করতে
হবে। বিশেষ করে কোন অবস্থাতে যেন ঘর বা সহিংসতা যৌন হয়রানি এবং মানব পাচারের
বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সম্ভাব্য প্রতিপাদ্য
২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আনুষ্ঠানিক প্রতিপাদ্য বিষয়টি এখনো ঘোষণা করা
হয়নি। তবে পূর্ববর্তী বছরে ধারাবাহিকতায় বর্তমানে সম্ভাব্য কিছু প্রতিপাদ্য
বিষয় সম্পর্কে অনুমান করা যাচ্ছে, আর এই সমস্ত প্রতিপাদ্য বিষয়গুলো নিচে দেওয়া
হল।
- জলবায়ু পরিবর্তনের নারীর নেতৃত্ব।
- কর্মক্ষেত্রে সমতা অন্তর্ভুক্ত করা।
- প্রযুক্তি খাতে নারীর ভূমিকা সহ ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিতে অংশগ্রহণ করা।
কীভাবে নারী দিবস উদযাপন করা হয় - নারীর উন্নয়নে আমাদের করণীয়
প্রতিবছর যথাযথ মর্যাদা সহিত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়। আর এই
নারী দিবস পালন করার পিছনে নারীদের সম্মান শক্তি অর্জনের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত
করা হয়েছে। বিশেষ করে এই দিনটি নারীদের জন্য সামাজিক অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং
সাংস্কৃতিক বিভিন্ন ধরনের অবদানের জন্য স্বীকৃত প্রদান করা হয়েছে।
শুধুমাত্র উদযাপনী যথেষ্ট নয় বরং নারীদের জন্য উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি
ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক সহ সামাজিক পর্যায়ে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা
একান্ত জরুরী। আজকের এই পোস্টে মাধ্যমে আমরা জানব কীভাবে নারী দিবস উদযাপন করা
হয় - নারীর উন্নয়নে আমাদের করণীয় বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যগুলো।
তাহলে চলুন আমরা এক নজরে ধাপে ধাপে এই সমস্ত তথ্যগুলো জেনে নিই।
কীভাবে নারী দিবস উদযাপন করা হয়
বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলোতে নারী দিবসের উদযাপনের ধরন গুলো ভিন্ন ভিন্ন হলেও
উদ্দেশ্য ও মূল লক্ষ্য একই। অর্থাৎ নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাধিকার প্রচার করা নিচে
আমরা নারী দিবসের উদযাপনে পদ্ধতির ধাপগুলো সম্পর্কে বিশ্লেষণ করা হলো।
বিশেষ আলোচনা সভা ও সেমিনার আয়োজন
নারী দিবসে নারীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সংগঠন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মস্থলে
আলোচনা সভা কিংবা সেমিনার যদি আয়োজন করা হলে, খুব সহজে নারীরা এই ধরনের লিঙ্গের
সমতা এবং সমান অধিকারসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সমাধানে সম্পর্কে জানতে পারবে।
সম্মাননা প্রদান ও পুরস্কার বিতরণ
নারী দিবসে নারীদের বিশেষ করে কৃতিত্ব অর্জনকারী নারীদের স্বীকৃতি ও সম্মান
প্রদান করা হলে, অন্যান্য নারীরা শিক্ষা স্বাস্থ্য ব্যবসা এবং প্রযুক্তি খাতে
তারা বিভিন্নভাবে অবদান রাখার পাশাপাশি সম্পর্কে জানতে পারবে।
কর্মক্ষেত্রে নারীদের বিশেষ সুবিধা প্রদান
বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে যেগুলো নারী দিবসের উপলক্ষে নারীদের জন্য
বিশেষ ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়। অর্থাৎ ছুটিসহ বোনাস ও উপহার প্রদান
করার পাশাপাশি কর্ম ক্ষেত্রে নারীদের প্রতি আদর্শ সম্মান প্রদান করা হয়।
নারীর উন্নয়নে আমাদের করণীয়
নারীদের প্রতি সমান অধিকার এবং ক্ষমতায়ন জন্য কেবলমাত্র এই দিনটি উদযাপনের জন্য
যথেষ্ট নয়। বরং সারা বছর ধরে সচেতনামূলকভাবে আমাদের কাজ করতে হবে। আর এই জন্য
আমাদের সকলের উচিত নারীদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে যে সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা
নিম্নলিখিত অংশে বিশ্লেষণ করা হলো।
নারীদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা
শিক্ষা হলো নারীর ক্ষমতায়নের মন চাবিকাঠি তাই নারীকে অবশ্যই শিক্ষার সুযোগ
নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও মেয়েদের স্কুল ও উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা এবং বিভিন্ন ধরনের কর্মমুখী শিক্ষার প্রচলন সৃষ্টি করা।
নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
একজন নারী যদি অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বাবলম্বী হতে পারে তাহলে, পরবর্তীতে সেই নারী
অন্য আরেকটি নারীকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ভালো পরামর্শ দিতে পারে। আর
এই জন্য নারীদের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান সহ সমান মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। এমনকি
নারীরা যদি উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করতে চায় তাহলে তাদেরকে
সহজলভ্য ঋণ দেওয়ার সুবিধা করতে হবে।
স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান
নারীর প্রতি স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিশেষভাবে সচেতন
বৃদ্ধি করতে হবে। কেননা স্বাস্থ্য সম্পর্কে নারী যদি নিরাপত্তার নিশ্চিত না থাকে
তাহলে তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।তাই একজন নারীর প্রতি মাতৃকালীন
স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান করার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
নারী নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি
নারীদেরকে যদি রাজনৈতিক নেতৃত্বে অংশগ্রহণের সমান সুযোগ তৈরি করা হলে, তাদের
মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ার পাশাপাশি পরিবার এবং সমাজের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে
সমর্থন দিতে পারবে।
বর্তমান সমাজে নারীদের ভূমিকা ও অবদান
বর্তমানে নারীরা সমাজের একটি অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিশেষ করে শিক্ষা,
স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সামাজিক বিভিন্ন উন্নয়নের কর্মকাণ্ডে
তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে বর্তমান সময়গুলোতে নারীরা কেবলমাত্র নিজেদের
পরিবার পরিচালনা জন্য নয় বরং পেশাগত এবং সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ
সাফল্য প্রতিনিয়ত অর্জন করছে।
কাজেই নারী জাতির উন্নয়ন ছাড়া সমাজের প্রকৃত উন্নতি কখনো সম্ভব নয়। তাই
বর্তমান বিশ্বে নারীদের অবদান প্রতিনিয়ত আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে তাই
আসুন আমরা জেনে নেই বর্তমান সমাজে নারীদের ভূমিকা ও অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত
সঠিক তথ্যগুলো।
শিক্ষা ও গবেষণায় নারীদের ভূমিকা
নারীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বিশেষ করে
তারা শিক্ষক অধ্যাপক, বিজ্ঞানী এবং গবেষক হিসেবে বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান
প্রতিনিয়ত রাখছে। অর্থাৎ নারীদের শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে সরকারি বেসরকারি
উদ্যোগে স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার সুযোগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অর্থনৈতিক খাতে নারীদের অবদান
বর্তমান সময়ে নারীরা ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোক্তা
ব্যাংকিং এবং তথ্য প্রযুক্তি সহ বড় বড় কোম্পানি অর্থাৎ গার্মেন্টস সহ কুটির
শিল্পে নারীদের অংশগ্রহণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কাজেই যদি এই সমস্ত
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যদি অংশগ্রহণ না করে তাহলে কোনভাবেই আমাদের অর্থনীতির
দিকগুলো উন্নতি করা সম্ভব হতো না।
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে নারীদের ভূমিকা
নারীরা প্রতিনিয়ত চিকিৎসক নার্স স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতে
তাদের অবদান অনেক। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময় নারীরা বিভিন্নভাবে
স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে অসাধারণ ভাবে কাজ করেছে। কাজেই নারীদের এই ধরনের
কৃতিত্বের অবদান যদি না থাকতো তাহলে এ কাজগুলো কোনোভাবেই সম্ভব হতো না।
লেখকের শেষ কথা
প্রিয় পাঠক আজকের আর্টিকেলটি আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ে
থাকেন তাহলে, অবশ্যই আপনি আলোচ্য বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন। কাজেই
আমাদের সমাজকে প্রতিনিয়ত সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত
করতে হবে। তবে শুধুমাত্র ৮ মার্চ নয় বরং প্রতিদিন নারীদের সম্মান মর্যাদা ও সমান
অধিকার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। আমাদের নারীরা যদি এগিয়ে যায় তাহলে, আমাদের
দেশ ও সামনে এগিয়ে যাবে।
Rajrafi.com এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url