২০২৫ সালে লাইলাতুল কদর কবে পালিত হবে?
জিলকদ মাসের রোজা - জিলকদ মাসের ১৫ টি ফজিলত ও আমল২০২৫ সালে লাইলাতুল কদর কবে পালিত হবে এই বিষয়ে জানতে চান? পবিত্র রমজানের শেষ
দশকে পালন হওয়া এই মহিমান্বিত রাতের তারিখ, ফজিলত এবং গুরুত্ব সম্পর্কে
বিস্তারিত জানতে পড়ুন।
আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে আমরা ২০২৫ সালে লাইলাতুল কদর কবে পালিত হবে? এই
বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব। তাই সঠিক তথ্য জানতে হলে, আজকের এই
পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
২০২৫ সালে লাইলাতুল কদর কবে পালিত হবে?
লাইলাতুল কদর, ইসলামের অন্যতম পবিত্র ও মহিমান্বিত রাত, যা হাজার হাজার মাসের
চেয়েও এটি উত্তম একটি রাত। আর এই রাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং ফেরেশতারা দুনিয়ায়
নেমে আসেন রহমত ও বরকত নিয়ে। তাই মুসলমানরা এ রাতে ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে
আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য চেষ্টা করেন। ২০২৫ সালে লাইলাতুল কদর কবে পালিত
হবে,
এ বিষয়ে জানতে আগ্রহী অনেকেই। কারণ, এই রাতে কুরআন নাজিল হয়েছে এবং ফেরেশতারা
দুনিয়ায় অবতরণ করেন। অর্থাৎ এই রাতে কুরআন নাজিল হয়েছে এবং ফেরেশতারা
দুনিয়ায় অবতরণ করেন। অতএব রমজান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোর মধ্যে ২৬ কিংবা
২৭ রমজান লাইলাতুল কদর হিসেবে পালিত হয়। আসুন, আমরা এই পবিত্র রাতের সঠিক তারিখ ও
এর গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত সঠিক তথ্যগুলো জেনে নিই।
লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব
লাইলাতুল কদর অর্থাৎ শবে কদর ইসলাম ধর্মের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাত যা প্রতি
বছর মাহে রমজান মাসের শেষ দশকের মধ্যে পালন করা হয় অর্থাৎ এ গুরুত্বপূর্ণ রাতে
কুরআন শরীফ প্রথম বারে আসমান থেকে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছিল আর এই জন্য মুসলমানরা
বিশ্বাস করে যে, আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত পাওয়া যায় এই মাসে তবে,
সঠিকভাবে যারা ইবাদত করে আল্লাহ তাদের দোয়া করেন এবং তাদের সমস্ত ধরনের গুনাহ ও
অপরাধ মাফ করে দেন তাই আসুন আমরা জেনে নিই লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব এবং কিভাবে
আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভ করা যায় এই গুরুত্বপূর্ণ রাতে।
কুরআন অবতরণের রাত
- লাইলাতুল কদরের রাতটি সেই রাত, যখন আল্লাহ তাআলা তার সর্বশেষ হিদায়েত কুরআন পৃথিবীতে অবতীর্ণ করেছিলেন। এটি মুসলমানদের জন্য এক বিশাল আনন্দের মুহূর্ত, কারণ এটি আল্লাহর আনুগত্যের পথের প্রাথমিক অনুপ্রেরণা।
এটি হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ
- হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ইবাদত করবে, তার এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের সমান হবে। এই মহান রাতে যেকোনো ভালো কাজ করা, দোয়া করা বা আল্লাহর স্মরণ করা, তার পুরস্কার অপরিসীম।
আল্লাহর মাগফিরাত ও রহমত
- লাইলাতুল কদরের রাতে আল্লাহর রহমত অসীমভাবে বৃদ্ধি পায়। এই রাতে আল্লাহ নিজের বান্দাদের জন্য ক্ষমা ঘোষণা করেন এবং যারা সত্যিকারের তওবা করে তাদের সকল গুনাহ মাফ করে দেন। এই রাতে আল্লাহর কাছ থেকে নতুন জীবন পাওয়ার সুযোগ পান মুসলমানরা।
দোয়া ও ইবাদতের বিশেষ গুরুত্ব
- লাইলাতুল কদরের রাতে দোয়া করা খুবই কার্যকরী। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি এই রাতে দোয়া করবে, তার দোয়া আল্লাহ শোনেন এবং তা কবুল করেন। তাই মুসলমানরা বিশেষভাবে চেষ্টা করেন এই রাতে বেশি করে নামাজ, তিলাওয়াত, দোয়া এবং যিকির করতে।
বিশ্বনবীর বিশেষ দোয়া
- বিশ্বনবি (সাঃ) নিজে এই রাতের ইবাদত করার জন্য উম্মতকে উৎসাহিত করেছেন। তিনি তার সাহাবাদের বলেছিলেন, "যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর বিশ্বাসের সাথে ঈমান ও পুরস্কারের আশা নিয়ে ইবাদত করবে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।
এটি একটি রাত যা ভবিষ্যতের ভাগ্য নির্ধারণ করে
- লাইলাতুল কদরের রাতে আল্লাহ তাআলা পরবর্তী বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করেন। এই রাতে সকল মানুষের রিজিক, মৃত্যু, জীবিত থাকা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সুতরাং, এটি শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং জীবনযাত্রার দিক দিয়েও।
তাই লাইলাতুল কদরের রাতটি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ। এটি
সবার জন্য আল্লাহর রহমত লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ, যেখানে মানুষ নিজেকে শুধরে নিতে
পারে, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে এবং তার ইবাদতকে আরও শক্তিশালী
করতে পারে। তাই রমজান মাসের শেষ দশকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মধ্যে
লাইলাতুল কদর থাকার সম্ভাবনা থাকে।এই রাতের গুরুত্ব অনুভব করতে হলে, মুসলমানদের
উচিত বিশেষভাবে এই রাতটিতে নামাজ, দোয়া এবং কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর
নিকট বেশি থেকে বেশি ইবাদত করা।
লাইলাতুল কদরের রাতে করণীয় এবাদত
লাইলাতুল কদর হলো ইসলামের অন্যতম পবিত্র রহমত ও বরকতময় রাত। এই রাতের ইবাদত এক
হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে উত্তম বলে কুরআনে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে অর্থাৎ (সূরা
আল-কদর, আয়াত-৩)। তাই, এই মহিমান্বিত রাতে বেশি বেশি ইবাদত, দোয়া ও তওবা করা
প্রত্যেক মুসলিম ঈমানদারদের উচিত।
কেননা এটি এমন এক রাত যখন আল্লাহ তায়ালা বান্দার গুনাহ ক্ষমা করেন, ও রহমত বর্ষণ
করেন এবং তাকদির নির্ধারণ করেন। তাই এ রাতে আমাদের প্রত্যেকের উচিত বেশি বেশি
ইবাদত করা।নিচে এমন কিছু ইবাদতের কথা উল্লেখ করা হলো যা লাইলাতুল কদরের ফজিলত
লাভের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা
- ফরজ নামাজের পাশাপাশি তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া উত্তম।
- ২, ৪, ৬ বা ৮ রাকাত নফল নামাজ আদায় করুন।
- দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত হওয়ায়, নামাজ শেষে আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা উচিত।
কুরআন তিলাওয়াত
- কুরআন নাজিলের রাত হওয়ায়, বেশি করে কুরআন তিলাওয়াত করা উচিত।
- অর্থসহ কুরআন পড়লে এর তাৎপর্য আরও ভালো বোঝা যাবে।
অধিক পরিমাণে দোয়া করা
- লাইলাতুল কদরের জন্য বিশেষ দোয়া
- اللهم إنك عفو تحب العفو فاعف عني
- উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি।
- অর্থ: হে আল্লাহ আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫১৩)
- নিজের, পরিবারের ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা উচিত।
জিকির ও তাসবিহ পাঠ
- সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ইত্যাদি জিকির বেশি বেশি করা উচিত।
- ১০০ বার আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করা যেতে পারে।
সদকা ও দান করা
- অভাবী, এতিম ও গরিবদের সাহায্য করা এই রাতের অন্যতম ফজিলতপূর্ণ আমল।
- অনলাইনে বা সরাসরি মসজিদ, মাদরাসা ও দুঃস্থদের মাঝে দান করা যেতে পারে।
ইস্তেগফার ও তওবা করা
- অতীতের গুনাহের জন্য অনুশোচনা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
- মন থেকে খাঁটি তওবা করলে আল্লাহ তা কবুল করেন।
গভীর মনোযোগ দিয়ে মুনাজাত করা
- একাকী আল্লাহর কাছে কাঁদতে কাঁদতে নিজের ও পরিবারের কল্যাণের জন্য দোয়া করা উত্তম।
- জান্নাতের জন্য দোয়া এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া উচিত।
সারারাত ইবাদতে কাটানোর চেষ্টা
- যদি সম্ভব হয়, রাত জেগে ইবাদত করা সবচেয়ে উত্তম।
- তবে কেউ যদি পুরো রাত জাগতে না পারে, তবে অন্তত তাহাজ্জুদ ও শেষ রাতের কিছু অংশ ইবাদতে কাটানো উচিত।
লেখকের শেষ কথা
লাইলাতুল কদর, যা শবে কদর নামেও পরিচিত, ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
একটি রাত। পবিত্র কুরআনের সূরা আল-কদরে উল্লেখিত এই রাতকে 'হাজার মাসের চেয়েও
উত্তম' বলা হয়েছে। মুসলমানরা বিশ্বাস করেন যে, এই রাতে ইবাদত করলে হাজার মাসের
ইবাদতের সমান সওয়াব পাওয়া যায়।লাইলাতুল কদর সাধারণত রমজান মাসের
শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোর মধ্যে একটি হয়ে থাকে, বিশেষ করে ২১, ২৩, ২৫, ২৭ বা
২৯তম রাতে। তবে, অনেক মুসলিম সমাজে ২৭তম রাতকে লাইলাতুল কদর হিসেবে বিশেষভাবে
পালন করা হয়।২০২৫ সালে, যদি রমজান মাস ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়, তবে ২৭তম
রাত হবে ২৬ মার্চ, বুধবার দিবাগত রাত। তবে, চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে
রমজানের তারিখ পরিবর্তিত হতে পারে, তাই লাইলাতুল কদরের সঠিক তারিখও পরিবর্তিত হতে
পারে। সুতরাং, মুসলমানদের উচিত রমজানের শেষ দশকের প্রতিটি বিজোড় রাতে ইবাদতে
মনোনিবেশ করা, যাতে লাইলাতুল কদরের বরকত থেকে বঞ্চিত না হন। লাইলাতুল কদর উপলক্ষে
মুসলমানরা বিশেষ নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে
আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন। এই রাতে ইবাদতকারীরা আল্লাহর অশেষ রহমত ও
ক্ষমা প্রাপ্তির আশায় মগ্ন থাকেন। তাই, এই মহিমান্বিত রাতে ইবাদতে মশগুল হয়ে
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।
Rajrafi.com এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url